নব্বইয়ের দশকের বাংলাদেশের অডিও বাজারের অন্যতম জনপ্রিয় ও শ্রোতাপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মনি কিশোর। তাঁর অনন্য গায়কী এবং বিরহপ্রধান গানগুলো সে সময় শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল। “আমি মরে গেলে জানি তুমি কাঁদবে না” গানটি মনি কিশোরের ক্যারিয়ারের অন্যতম একটি মাইলফলক। প্রখ্যাত গীতিকার ও সুরকার মিল্টন খন্দকারের কথা, সুর ও সংগীতে তৈরি এই গানটি চরম অবহেলা, ভালোবাসার ব্যর্থতা এবং মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রিয়জনের প্রতি এক নিঃস্বার্থ ও বিষাদময় আকুলতার বহিঃপ্রকাশ।
Table of Contents
গানের তথ্য
| শিরোনাম | তথ্য |
| গানের নাম | আমি মরে গেলে জানি তুমি কাঁদবে না |
| কণ্ঠশিল্পী | মনি কিশোর |
| গীতিকার | মিল্টন খন্দকার |
| সুরকার ও সংগীত | মিল্টন খন্দকার |
| গানের ধরন | আধুনিক বাংলা গান (বিরহপ্রধান / মেলোডি) |
| মূল উপজীব্য | চরম একাকীত্ব, মৃত্যুর পরস্মৃতি ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা |
আমি মরে গেলে জানি তুমি কাঁদবে না (মূল লিরিক্স)
আমি মরে গেলে জানি তুমি কাঁদবে না
ওখানেই শেষ করে দিও
চাইবো না কিছুই তোমার
শুধু মনে রেখো কোনো একদিন
ভালোবেসে ছিলাম তোমায়।
পুরনো স্মৃতিগুলো মন থেকে তুমি মুছে দিও
আবার নতুন করে এ জীবন সাজিয়ে নিও
সেই চেনা সুরে সেই চেনা নাম ধরে ডেকো না আমায়
শুধু মনে রেখো কোনো একদিন
ভালোবেসে ছিলাম তোমায়।
কখনো ভুল করে সমাধিতে ফুল দিও না
আমার মরণ দিনে চোখে জল তুমি এনো না
থাক না ভরে সমাধির ‘পরে ঝরানো পাতা
শুধু মনে রেখো কোনো একদিন
ভালোবেসে ছিলাম তোমায়।
Ami More Gele Jani Tumi Kadbe Na (Romanized Version)
Ami more gele jani tumi kadbe na
Okhaney shesh kore dio
Chaibo na kichui tomar
Shudu mone rekho kono ekdin
Bhalobese chilam tomay.
Purono smritigulo mon theke tumi muche dio
Abar notun kore e jibon sajiye nio
Shei chena shure shei chena nam dhore deko na amay
Shudu mone rekho kono ekdin
Bhalobese chilam tomay.
Khono bhul kore shomadhite ful dio na
Amar moron dine chokhe jol tumi eno na
Thak na bhore shomadhir ‘pore jhorano pata
Shudu mone rekho kono ekdin
Bhalobese chilam tomay.
গানের মূল ভাব ও চরণ বিশ্লেষণ
মিল্টন খন্দকারের মর্মস্পর্শী কথা ও মনি কিশোরের দরদভরা কণ্ঠ গানটিকে এক চিরন্তন বিরহের রূপ দিয়েছে:
বাস্তবতার নিষ্ঠুরতা ও শেষ আকুতি: “আমি মরে গেলে জানি তুমি কাঁদবে না / ওখানেই শেষ করে দিও…” — গানটির শুরুতেই এক চরম ও নির্মম সত্যকে মেনে নেওয়ার সুর ধ্বনিত হয়েছে। প্রেমিক জানেন যে তাঁর চলে যাওয়াতে প্রিয়জনের মনে কোনো রেখাপাত করবে না, কোনো অশ্রু ঝরবে না। তিনি কোনো কৃত্রিম শোক বা সহানুভূতি চান না। তাঁর জীবনের সমস্ত চাওয়া-পাওয়া যেখানে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে মৃত্যুর পর তাঁর একমাত্র দাবি—প্রিয়জন যেন শুধু এইটুকু মনে রাখে যে কেউ একজন তাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছিল।
প্রিয়জনের সুখ কামনা ও নিঃস্বার্থ ত্যাগ: “পুরনো স্মৃতিগুলো মন থেকে তুমি মুছে দিও / আবার নতুন করে এ জীবন সাজিয়ে নিও…” — সত্যিকারের ভালোবাসায় কোনো প্রতিহিংসা বা অধিকারবোধের জোর থাকে না। প্রেমিক চান না তাঁর স্মৃতি প্রিয়জনের বর্তমান বা ভবিষ্যৎ জীবনের ওপর কোনো কালো ছায়া ফেলুক। তাই তিনি সমস্ত পুরনো স্মৃতি মুছে ফেলে প্রিয়জনকে নতুন করে জীবন সাজানোর তাগিদ দিয়েছেন। এমনকি যে চেনা নামে ডাকলে অতীতে হৃদয়ে দোলা লাগত, মৃত্যুর পর সেই নামে আর না ডাকার এক করুণ অনুরোধ জানিয়েছেন।
লোকদেখানো আচার বর্জন ও চিরন্তন একাকীত্ব: “কখনো ভুল করে সমাধিতে ফুল দিও না / আমার মরণ দিনে চোখে জল তুমি এনো না…” — বেঁচে থাকতে যিনি অবহেলা পেয়েছেন, মৃত্যুর পর কবরে লোকদেখানো ফুলের স্তবক কিংবা মরণ দিনে চোখের জল তাঁর কাছে অর্থহীন। তিনি বরং নিজের সমাধিটিকে ঝরানো পাতায় ঢেকে প্রকৃতির মাঝেই বিলীন করে দিতে চান। বাহ্যিক কোনো আচার বা শোকের চেয়ে হৃদয়ের কোণে সামান্যতম স্মরণের স্থান পাওয়াটাই তাঁর কাছে অনেক বেশি মূল্যবান।
উৎস (Sources)
এই নিবন্ধের লিরিক্স এবং আনুষঙ্গিক তথ্যাদি কণ্ঠশিল্পী মনি কিশোরের নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় একক/মিশ্র অডিও অ্যালবাম, প্রখ্যাত সুরকার মিল্টন খন্দকারের সুরারোপিত গানের তালিকা, বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারের আর্কাইভ এবং নির্ভরযোগ্য বাংলাদেশী মিউজিক ডিসকোগ্রাফি ফোরাম থেকে সংগৃহীত ও সুবিন্যস্ত করা হয়েছে।