আকাশ প্রদীপ জ্বলে লিরিক্স | লতা মঙ্গেশকর

বাংলা আধুনিক গানের জগতে সুরের জাদুকরী লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে ‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে’ গানটি বিরহ ও প্রতীক্ষার এক অনবদ্য দলিল। বিষণ্ণতা আর ব্যাকুলতার এমন অপূর্ব সংমিশ্রণ খুব কম গানেই পাওয়া যায়। এই গানটি শুনতে শুনতে শ্রোতা যেন এক অনন্ত প্রতীক্ষার প্রহরে হারিয়ে যান, যেখানে প্রদীপের শিখার মতো হৃদয়ের আবেগগুলোও কাঁপতে থাকে।

গানের মূল তথ্য

গানের নামআকাশ প্রদীপ জ্বলে
কণ্ঠশিল্পীলতা মঙ্গেশকর
গীতিকারগৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
সুরকারনচিকেতা ঘোষ
গানের ধরনআধুনিক বাংলা গান / বিরহী গীতি

শিল্পী ও প্রেক্ষাপট পরিচিতি

লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠের সহজাত মাধুর্য এবং উচ্চারণশৈলী এই গানটিকে এক ধ্রুপদী মর্যাদায় উন্নীত করেছে। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের কলমে বিরহের যে কাব্যিক রূপ ফুটে উঠেছে, নচিকেতা ঘোষের সুরে তা এক গভীর দার্শনিক মাত্রা পেয়েছে। আকাশ, প্রদীপ এবং তারার মতো রূপকের মাধ্যমে এখানে যে নিঃসঙ্গতার ছবি আঁকা হয়েছে, তা লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে এক বিষাদময় সৌন্দর্য নিয়ে হাজির হয়। মূলত আশির দশকের চলচ্চিত্রের গানের আবহ কিংবা সেই সময়ের আধুনিক বাংলা গানের স্বর্ণযুগের এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার এই গানটি।

আকাশ প্রদীপ জ্বলে

আকাশ প্রদীপ জ্বলে দূরের তারার পানে চেয়ে,

আমার নয়ন দু’টি শুধুই তোমারে চাহে

ব্যথার বাদলে যায় ছেয়ে।।

বয়ে চলে আঁধি আর রাত্রি

আমি চলি দিশাহীন যাত্রী

দূর অজানার পারে

আকুল আশার খেয়া বেয়ে।।

কত কাল আর কত কাল

এই পথচলা ওগো চলবে

কত রাত এই হিয়া

আকাশ প্রদীপ হয়ে জ্বলবে

কোনো রাতে মনে কি গো পড়বে

ব্যথা হয়ে আঁখি জল ঝরবে

বাতাস আকুল হবে

তোমার নিঃশ্বাসটুকু পেয়ে।।

 

Akash Prodip Jwole Romanized Version

Akash prodip jwole durer tarar pane cheye,

Amar noyon duti shudhui tomare chahe

Byathar badole jay cheye.

Boye chole adhi ar ratri

Ami choli dishahin jatri

Dur ojanar pare

Akul ashar khea beye.

Koto kal ar koto kal

Ei pothchola ogo cholbe

Koto rat ei hiya

Akash prodip hoye jwolbe

Kono rate mone ki go porbe

Byatha hoye ankhi jol jhorbe

Batash akul hobe

Tomar nishwas-tuku peye.

গানের মূল ভাব ও চরণ বিশ্লেষণ

গানটির মূল ভাব হলো ‘অবিরাম প্রতীক্ষা’। ‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে দূরের তারার পানে চেয়ে’—এই চরণের মাধ্যমে গায়িকা নিজের মনকে সেই আকাশের প্রদীপের সাথে তুলনা করেছেন, যা তারার দিকে তাকিয়ে থাকে। এটি একদিকে যেমন রোমান্টিকতা, অন্যদিকে তেমনি এক ধরনের আধ্যাত্মিক আকুলতা। ‘আমি চলি দিশাহীন যাত্রী’—এই অংশটি জীবনের উদ্দেশ্যহীনতা এবং প্রিয়জনের সান্নিধ্যহীনতার এক গভীর যন্ত্রণা প্রকাশ করে।

গানের শেষ অংশে এসে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ফুটে ওঠে—‘কত কাল আর কত কাল এই পথচলা ওগো চলবে’। প্রিয়জনের মনে নিজের স্থান নিয়ে যে প্রশ্ন, তা এখানে অত্যন্ত করুণ সুরে ধরা দিয়েছে। ‘বাতাস আকুল হবে তোমার নিঃশ্বাসটুকু পেয়ে’—এই কল্পনাটি বিরহের চূড়ান্ত পর্যায়ে গায়িকার গভীর প্রেমের আত্মনিবেদনের প্রকাশ। লতা মঙ্গেশকরের প্রতিটি উচ্চারণে এক ধরনের নিবিড় দীর্ঘশ্বাস মিশে আছে, যা গানটিকে প্রতিটি শ্রোতার নিজের মনে হতে বাধ্য করে।

উৎস (Sources)

এই নিবন্ধের লিরিক্স এবং সাঙ্গীতিক তথ্যসমূহ গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের গীতিসংকলন, নচিকেতা ঘোষের সুরারোপিত গানের প্রামাণ্য আর্কাইভ এবং লতা মঙ্গেশকরের বাংলা গানের রেকর্ডিং থেকে সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়েছে।