আনন্দ আজ ধরে না আর লিরিক্স | মাধুরী চট্টোপাধ্যায়

মা-মেয়ের অমোঘ সম্পর্কের এক করুণমধুর মুহূর্তকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে ‘আনন্দ আজ ধরে না আর’ গানটি। শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় এবং কল্যাণ সেন বরাটের সুরে, মাধুরী চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে এই গানটি প্রতিটি বিবাহিতা কন্যার মায়ের হৃদয়ের অব্যক্ত ভাষাকে মূর্ত করে তুলেছে। বিদায়ের বিষাদ এবং নতুন জীবনের আশীর্বাদ—এই দুইয়ের সমন্বয়ে গানটি আজও মানুষের হৃদয়ে এক অমোঘ আবেদন নিয়ে বেঁচে আছে।

গানের তথ্য

গানের নামআনন্দ আজ ধরে না আর
কণ্ঠশিল্পীমাধুরী চট্টোপাধ্যায়
গীতিকারশিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
সুরকারকল্যাণ সেন বরাট
বছর২০০১
গানের ধরনআধুনিক বাংলা গান / মা-মেয়ের আবেগ

শিল্পী ও প্রেক্ষাপট পরিচিতি

মাধুরী চট্টোপাধ্যায় তাঁর মরমী ও সুমিষ্ট গায়কীর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এই গানটিতে মা যখন তাঁর কন্যাকে বিয়ের সাজে সাজিয়ে বিদায় জানান, সেই মুহূর্তের মানসিক টানাপোড়েন তিনি অত্যন্ত জীবন্তভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কল্যাণ সেন বরাটের সুরে যে বিষণ্ণতা ও স্নিগ্ধতা রয়েছে, তা মাধুরী দেবীর কণ্ঠে এক গভীর মানবিক মাত্রা পেয়েছে। শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের গীতিধর্মী লেখায় মায়ের হৃদয়ের সেই চিরন্তন দ্বন্দ্ব—একদিকে পরম প্রাপ্তির আনন্দ, অন্যদিকে সন্তানকে ছেড়ে যাওয়ার গভীর বেদনা—খুব সহজ অথচ হৃদয়স্পর্শী ভাষায় উঠে এসেছে।

আনন্দ আজ ধরে না আর

আনন্দ আজ ধরে না আর

আজকে মা তোর বিয়ে

চোখের জলে ভিজিয়ে তোকে

দিলাম যে সাজিয়ে॥

আদর সোহাগ দিয়ে তোকে

তুলেছি যে গড়ে

আমায় ছেড়ে যাবি যে তুই

অন্য আর এক ঘরে

(তবু) বিদায় তোকে দিতে হবে

দু’চোখ ভিজিয়ে॥

এক মুঠো চাল দিলি যে শোধ

ঐ তো মায়ের ঋণ

ভাঙা বুকের মাঝখানেতে তুই

থাকবি চিরদিন

থাকিস সুখে সবাইকে তুই

আপন করে নিয়ে॥

Anondo Aaj Dhore Na Ar Romanized Version

Anondo aaj dhore na ar

Ajke ma tor biye

Chokher jole bhijiye toke

Dilam je sajiye.

Ador sohag diye toke

Tulechi je gore

Amay chhere jabi je tui

Onyo ar ek ghore

(Tobu) biday toke dite hobe

Du’chokh bhijiye.

Ek mutho chal dili je shod

Oi to mayer rin

Bhanga buker majhkanete tui

Thakbi chirodin

Thakis shukhe shobaike tui

Apon kore niye.

গানের মূল ভাব ও চরণ বিশ্লেষণ

গানটির মূল সুর—‘বিদায়ের আনন্দ ও বেদনা’। ‘আনন্দ আজ ধরে না আর’—এই পঙক্তি দিয়ে শুরু হলেও গানটি দ্রুতই মায়ের গভীর শূন্যতার দিকে মোড় নেয়। ‘অন্য আর এক ঘরে’—মেয়ের নতুন জীবনে পা রাখার বাস্তবতাকে মা মেনে নিতে চাইলেও, ‘ভাঙা বুকের মাঝখানেতে তুই থাকবি চিরদিন’—এই চরণটি প্রতিটি মায়ের হৃদয়ের এক শাশ্বত সত্যকে উচ্চারণ করে।

বিশেষ করে ‘এক মুঠো চাল দিলি যে শোধ, ঐ তো মায়ের ঋণ’—এই অংশটি অত্যন্ত প্রতীকী। বিয়ের বিদায় বেলায় মেয়ের মায়ের আঁচল থেকে বিদায় নেওয়া এবং কৃতজ্ঞতাস্বরূপ চাল ছিটিয়ে দেওয়া—এই চিরন্তন বাঙালি প্রথাকে শিল্পী এখানে মায়ের জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি বা ঋণশোধ হিসেবে দেখিয়েছেন। এটি কেবল একটি গান নয়, বরং একটি বিদায়বেলার প্রার্থনা। মাধুরী চট্টোপাধ্যায়ের দরদি কণ্ঠে এই গানটি যেকোনো বিয়ের আয়োজনে এক অশ্রুসিক্ত অথচ আশীর্বাদের আবহে রূপ নেয়।

উৎস (Sources)

এই নিবন্ধের লিরিক্স এবং সাঙ্গীতিক তথ্যসমূহ ২০০১ সালের সাউন্ড ট্র্যাক সংগ্রহ, আধুনিক বাংলা গানের আর্কাইভ এবং শিল্পী মাধুরী চট্টোপাধ্যায়ের ডিসকোগ্রাফি থেকে সংগৃহীত ও যাচাই করা হয়েছে।